নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী বান্ধব নগরঃ

বর্তমান সমস্যা নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীরা নগরের অনেক সেবাই সহজে ব্যবহার করতে পারে না। নিরাপত্তা ও চলাচলে বাধা রয়েছে। কেন সমাধান হয়নি ? কারণ নগর পরিকল্পনায় তাদের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আমার প্রস্তাবিত সমাধান: -ওয়ার্ড ভিত্তিক নারী পাবলিক টয়লেট স্থাপন করবো যেখানে সিটি কর্পোরেশন এর পক্ষ থেকে ফ্রি সেনিটারি ন্যাপকিন বুথ স্থাপন করা হবে। -নিরাপদ পার্ক, প্রতিবন্ধী বান্ধব র্যাম্প এবং আলাদা হেল্পলাইন চালু করবো। নগর হবে সবার জন্য শক্তিশালীর জন্য নয়।

স্থানীয় অর্থনীতি (কর্মসংস্থান, ব্যবসা ও পর্যটন পরিবেশ)

বর্তমান সমস্যা বেকারত্ব বাড়ছে, ছোট ব্যবসায়ীরা নানা জটিলতায় পড়ছেন, উদ্যোক্তারা সহযোগিতা পাচ্ছেন না। কেন সমাধান হয়নি ? কারণ স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ছিল না। আমার প্রস্তাবিত সমাধান: -আমি চাই ময়মনসিংহ হোক Small Business and Startup Friendly City. ট্রেড লাইসেন্স সহজীকরণ, নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য প্রাথমিক অবস্থায় সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ্য থেকে অনুদান দেয়া এবং পরবর্তীতে বিনিয়োগ পেতে সহায়তা করার পাশাপাশি অফিস স্পেস এর ব্যবস্থা করা। -মেইড ইন ময়মনসিংহ প্রোডাক্টস যেমন বিখ্যাত মিষ্টান্ন দ্রব্য সহ সকল পণ্যের জাতীয় পর্যায়ে ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে সারাদেশ ব্যাপি বিক্রয়ের পরিবেশ তৈরি করা। -নগরীর বিভিন্ন পর্যটক স্থান এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো জাতীয় পর্যায়ে ব্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে দেশি বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা।

পানি সরবরাহ ও জলাবদ্ধতা ব্যবস্থাপনাঃ

বর্তমান সমস্যা ময়মনসিংহ নগরীর অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। কোথাও পানির চাপ কম, কোথাও আবার পানিতে দুর্গন্ধ ও দূষণের অভিযোগ। জলাবদ্ধতার কারণে পানিবাহিত রোগও বাড়ছে। কেন সমাধান হয়নি ? কারণ আধুনিক পানি শোধন ব্যবস্থা নেই, লিকেজ নিয়ন্ত্রণ হয় না এবং পানির উৎস সংরক্ষণে পরিকল্পনার অভাব। আমার প্রস্তাবিত সমাধান: পানি সরবরাহকে ড্রেনেজের সাথে সমন্বিত করে Modern Water Management System চালু করবো। খাল খনন, নিয়মিত পানির মান পরীক্ষা, লিকেজ শনাক্তকরণ এবং বিকল্প পানি উৎস সংরক্ষণ নিশ্চিত করবো।

মাদকমুক্ত ময়মনসিংহঃ

বর্তমান সমস্যা ময়মনসিংহ নগরীতে মাদক একটি নীরব কিন্তু ভয়ংকর সংকটে পরিণত হয়েছে। তরুণ সমাজ ধ্বংসের পথে যাচ্ছে, পরিবার ভাঙছে, অপরাধ বাড়ছে। অনেক এলাকায় প্রকাশ্যেই মাদকের লেনদেন চলছে। কেন সমাধান হয়নি ? কারণ শুধু অভিযানের উপর নির্ভর করা হয়েছে, কিন্তু সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়নি। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, স্থানীয় নজরদারি ও পুনর্বাসনের অভাব এই সমস্যাকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে। আমার প্রস্তাবিত সমাধান আমি বিশ্বাস করি, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই হবে আইন + সমাজ + পুনর্বাসন – এই তিন স্তরে।প্রতিটি ওয়ার্ডে Anti-Drug Community Committee, যুবকদের জন্য খেলাধুলা ও স্কিল প্রোগ্রাম, এবং মাদকাসক্তদের জন্য কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসন কেন্দ্র চালু করবো।মাদক ব্যবসায়ীর জন্য থাকবে Zero Tolerance, আর মাদকাসক্তের জন্য থাকবে ফেরার সুযোগ।

পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনাঃ

বর্তমান সমস্যা আবর্জনা নিয়মিত সংগ্রহ হয় না, ডাস্টবিনের অভাব এবং খোলা জায়গায় ময়লা ফেলার প্রবণতা নগর পরিবেশকে অস্বাস্থ্যকর করে তুলেছে। কেন সমাধান হয়নি ? কারণ আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার অভাব, কর্মীদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না থাকা এবং নাগরিক সচেতনতার ঘাটতি। আমার প্রস্তাবিত সমাধান আধুনিক ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন এবং নিয়মিত আবর্জনা সংগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও নাগরিকদের সচেতন করতে গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদার করা জরুরি।

আলো ও নিরাপত্তাঃ

বর্তমান সমস্যা অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট নেই বা নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে রাতের বেলা চুরি, ছিনতাই ও নারীদের চলাচল অনিরাপদ হয়ে উঠছে। কেন সমাধান হয়নি ? কারণ আলো ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব না দেওয়া, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান না নেওয়া। আমার প্রস্তাবিত সমাধান নগরজুড়ে LED ও Solar Street Light বসানো হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে লাইট মেইনটেন্যান্স টিম থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আলো + সিসিটিভি সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হবে, যাতে নাগরিকরা রাতে নিশ্চিন্তে চলাফেরা করতে পারেন।

রাস্তা ও ড্রেনেজঃ

বর্তমান সমস্যা ময়মনসিংহ নগরীর অনেক সড়ক এখনো ভাঙাচোরা, অসমতল ও জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত। বর্ষা মৌসুম এলেই ড্রেন উপচে পানি রাস্তায় উঠে আসে, যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। কেন সমাধান হয়নি ? কারণ পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন, নিম্নমানের কাজ, একাধিক সংস্থার সমন্বয়ের অভাব এবং স্থায়ী সমাধানের বদলে অস্থায়ী প্যাচওয়ার্ক সংস্কৃতি। আমার প্রস্তাবিত সমাধান আমি চাই ওয়ার্ডভিত্তিক মাস্টার ড্রেনেজ প্ল্যান। রাস্তা করার আগে ড্রেনেজ – এই নীতি বাস্তবায়ন করবো। ঠিকাদারি কাজ হবে স্বচ্ছ টেন্ডারের মাধ্যমে, এবং কাজের মান নিয়ন্ত্রণে নাগরিক মনিটরিং চালু করা হবে। লক্ষ্য হবে একবারে টেকসই কাজ, বারবার মেরামত নয়।

যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

বর্তমান সমস্যা ! নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকে। স্কুল, অফিস ও বাজার এলাকায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। কেন সমাধান হয়নি ? কারণ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিক হয়নি, ফুটপাত দখল এবং পরিকল্পনাহীন পার্কিং। আমার প্রস্তাবিত সমাধানঃ Ward-wise Traffic Plan, নির্দিষ্ট পার্কিং জোন এবং স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করবো। ফুটপাত হবে পথচারীদের জন্য – দখলমুক্ত নগর গড়বো।